খুলনা মহানগরীতে বসবাসের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে—–খুলনা সিটি মেয়র

খুলনায় বিপ্তি ঘটনার মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় দিনের হরতাল পালিত
কুয়েটে মর্ডাণ কাশরুম ইকুইপমেন্টস বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত
খুলনায় দু’টি মন্দিরসহ ২০ স্থাপনায় দুর্বৃত্তদের হামলা
: খুলনার দৌলতপুরে অজ্ঞাত শতাধিক দুর্বৃত্ত স্থানীয় বণিকপাড়া, গাছতলা কালি মন্দির, আশপাশের দোকানপাটে হামলা চালিয়েছে। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। সোমবার রাত ৯টা ১৫ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যদর্শীরা জানান, শতাধিক যুবক আকষ্মিকভাবে লাঠিসোঠা নিয়ে দৌলতপুর থানার বণিকপাড়ায় হামলা চালায়। তারা দু’টি মন্দিরের গেটসহ আশপাশের দোকান, বাড়িঘরসহ ২০টি স্থাপনায় ভাঙচুর করে। এক পর্যায়ে তারা ২-৩টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে থানা মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, ওয়ার্কার্স পার্টি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের স্থানীয় সংগঠন নূরুল ইসলাম নূরুজানান, স্থানীয় দু’টি গ্র“পের দ্বন্দ্বের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে। আমরা স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করছি। দৌলতপুর থানার ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম জানান, তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে বণিকপাড়ায় স্থানীয় দু’গ্র“পের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ অবস্থান করছে। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শফিকুর রহমান জানান, বণিকপাড়া ও দফাদার পাড়ার দু’টি গ্র“পের মধ্যে কবুতর নিয়ে একটি বিরোধ চলছিল। তার জের ধরে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে তিনি মন্দিরে হামলা হয়নি বলে জানান।
খুলনার ডুমুরিয়ায় পিস্তল ও ইয়াবাসহ আকট যুবক-যুবতীকে আদালতে সোপর্দ
: খুলনার ডুমুরিয়া থানা পুলিশের হাতে পিস্তাল, ম্যাগজিন ও ইয়াবাসহ আটক যুবক-যুবতীকে দু’টি পৃথক মামলায় মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। থানা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাযায়, উপজেলার খুলনা-সাতীরা মহাসড়কের খর্ণিয়া ব্রীজ নামকস্থানে সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে থানার এ,এস,আই শেখ মোক্তার হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে টহল দেওয়ার সময় চুকনগর থেকে খুলনাগামী নম্বর বিহীন লাল রং এর একটি হিরো হোন্ডা মটর সাইকেলের গতিরোধ করে। এ সময় মটর সাইকেল আরোহী সোনাডাঙ্গা থানার শেখ আনোয়ারুল ইসলামের পুত্র তাহাসান ওরফে দীপ্ত (২৪) ও তার সহযোগি একই এলাকার নাসির উদ্দিনের স্ত্রী সোমা খাতুন (২৪) এর দেহ তল্লাশী করে একটি ৯এমএম বিদেশী পিস্তাল, দু’টি ম্যাগজিন ও ৮০পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার সহ তাদের আটক করে। ধৃত আসামীরা দীর্ঘদিন যাবৎ অবৈধ অস্ত্র, মাদকদ্রব্য বেচাকেনা সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃত্ত বলে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। সাতীরার কলারোয়া থানার জনৈক রায়হান (২৫) ও রবিউল ইসলাম (২২) নামে দুই অস্ত্র ও মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ওইগুলি বিক্রির উদ্দেশ্যে খুলনায় নিয়ে যাচ্ছিল বলে স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় থানার এ এস আই শেখ মোক্তার হোসেন বাদী হয়ে ধৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও বিস্ফোরক এবং মাদক আইনে পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করেছে। পুলিশ আসামীদের আদালতে সোপর্দ করেছে।
খুলনার ডুমুরিয়ায় ১ কেজি গাঁজাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী আটক
: খুলনার ডুমুরিয়ার খর্ণিয়া থেকে ১কেজি গাঁজাসহ ধৃত ৩ মাদক ব্যবসায়ীকে মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানার এ এস আই শেখ মোক্তার হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার খর্ণিয়া ব্রীজের কাছে টহলরত অবস্থায় খুলনাগামী একটি নম্বর বিহীন হোন্ডা মটর সাইকেলের গতিরোধ করে। এ সময় মটর সাইকেল আরোহী মাদক ব্যবসায়ী কেএমপি সোনাডাঙ্গা থানার শামছুজ্জামান মিলু (৩৮), বটিয়াঘাটার ঘোনা এলাকার শহীদ সরদার (৩০) ও ডুমুরিয়ার ভূলবাড়িয়া গ্রামের ইব্রাহীম শেখ (৩৫) এর কাছ থেকে ১কেজি গাঁজা উদ্ধার সহ মটর সাইকেলটি জব্দ এবং তাদের কে আটক করে। এ ঘটনায় এ এস আই মোক্তার হোসেন বাদী হয়ে ডুমুরিয়া থানায় মাদক আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ধৃত আসামীদের মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করেছে।
খুলনার পাইকগাছায় ষড়যন্ত্র মামলায় ইউপি চেয়ারম্যানের জামিন লাভ
: খুলনার পাইকগাছায় দায়েরকৃত দুটি ষড়যন্ত্র মামলা হতে ইউপি চেয়ারম্যান এস,এম, এনামুল হক সহ সকলে গত সোমবার পাইকগাছা বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত হতে জামিন পেয়েছেন। মামলা সূত্রে জানা যায়, পাইকগাছা উপজেলার পূর্ব খড়িয়া গ্রামের দিনেশ হালদারের পুত্র তরুন কান্তি হালদার একটি বিরোধীয় লীজ ঘেরকে কেন্দ্র করে খুলনা জেলার সর্বোচ্চ ভোট প্রাপ্ত পাইকগাছার সোলাদানা ইউপি চেয়ারম্যান এস,এম, এনামুল হকের নামে খালিয়ারচক গ্রামের মৃত গোবিন্দ মন্ডলের পুত্র মামলাবাজ, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার পরিচয় দানকারী গোলক চন্দ্র মন্ডলের সহযোগী গত ২০ জানুয়ারী পাইকগাছা থানায় ৩৩নং মামলা দায়ের করে। উক্ত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে সোলাদানার হাজার হাজার নারী-পুরুষ পাইকগাছায় বিােভ সমাবেশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস ঘেরাও করে। এরপর সুচতুর গোলক ও তার আপন ভাই প্রহলাদকে সরিয়ে তার স্ত্রীকে বাদী করে পাইকগাছা থানায় চেয়ারম্যানের নামে ষড়যন্ত্রমূলক অপহরণ মামলা দায়ের করে। উক্ত মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান এস,এম, এনামুল হক সহ সকল আসামী গত ১২ ফেব্র“য়ারী মহামান্য হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করলে মহামান্য হাইকোর্ট আগাম জামিন প্রদান করেন। গত সোমবার চেয়ারম্যান সহ সকল আসামীরা হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী পাইকগাছা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে আত্মসমার্পণ করলে বিজ্ঞ আদালত সকলের জামিন মঞ্জুর করেন। এ সময় সোলাদানা ইউনিয়নের শত শত নারী পুরুষ আদালত চত্ত্বরে ভীড় জমায়।
খুলনার চালনা পৌরসভায় সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটি গঠন
: খুলনার চালনা পৌরসভার সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটি গঠন উপল্েয এক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত সোমবার বিকাল ৫টায় পৌরসভা অডিটোরিয়ামে চালনা পৌর মেয়র অধ্য ড. অচিন্ত্য কুমার মন্ডলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তৃতা করেন পৌর কাউন্সিলর কৃষ্ণপদ বিশ্বাস, আনন্দ সাহা, সুধীন্দ্রনাথ বিশ্বাস মাখন, বিপব বিশ্বাস, ডাঃ গুরুদাস রায়, ডাঃ নিতাই মন্ডল, অধ্যাপক সঞ্জয় সাহা, গোবিন্দ বিশ্বাস, চিন্ময় বিশ্বাস, এ্যাডঃ চিত্র রঞ্জন সরকার, সাগর সেন, গৌতম সাহা, প্রভাত রায়, শ্রীকৃষ্ণ মন্ডল, শিবপদ পোদ্দার, সত্যজিত হালদার প্রমুখ। সভায় মেয়র অচিন্ত্য কুমার মন্ডলকে আহবায়ক এবং অধ্যাপক সঞ্জয় সাহাকে সদস্য সচীব করে ৩১ সদস্য বিশিষ্ঠ চালনা পৌরসভা সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়।
খুলনার দাকোপে ভ্রাম্যমান আদালতে ইভটিজিংয়ের দ্বায়ে ৩ যুবককে সাজা
: স্কুল ছাত্রীদের সাথে ইভটিজিং করার অপরাধে দাকোপে উপজেলা ভ্রাম্যমান আদালত ৩ যুবককে সাজা দিয়েছে। সুত্রে জানা যায় উপজেলার পানখালী ইউনিয়নের মমতাজ বেগম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রীদের গত ২/৩ বছর যাবৎ অভিযুক্ত ৩ যুবক স্কুলে যাওয়া আসার পথে নানাভাবে উত্যাক্ত করে আসছিল। বিষয়টি ভুক্তভোগী অভিবাবকরা ইতিপূর্বে একাধীকবার স্কুল শিকসহ এলাকার সচেতন মহলের নিকট অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পায়নি। অবশেষে নিরুপায় হয়ে গতকাল তারা বিষয়টি দাকোপ থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ অভিযুক্তদের আটক করে উপজেলা ভ্রাম্যমান আদালতে সোপার্দ করে। আটককৃতরা হল পানখালী গ্রামের শাহাজান মোলার পুত্র নাজমুল মোলা (১৯), সরোয়ার মোলার পুত্র মনিরুল মোলা (১৮) এবং তালেব শেখের পুত্র ইরাজ শেখ (২৫)। গত সোমবার বিকাল ৫ টায় ভ্রাম্যমান আদালতের উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আব্দুল হালিম অভিযুক্তদের দঃ বিঃ ৫০৯ ধারা মোতাবেক অভিযুক্তদের প্রত্যেকের ১ বছর করে বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করে।
বাগেরহাটে পিকেদারদের ওপর আ’লীগ নেতার গুলিবর্ষন : গুলিবিদ্ধ ২
: বাগেরহাটে ১৮ দলের ডাকা হরতালে দ্বিতীয় দিন ফকিরহাটের শুকদাড়া এলাকায় মঙ্গলবার বেলা ১০টায় পিকেটিংয়ের সময়ে তাদের ওপর আ’লীগের এক নেতা গুলিবর্ষন করে। এ সময়ে ২ বিএনপি কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়। এতে আহত হয় আরও ৫ জন। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এদিকে ভোরে বাগেরহাট-পিরোজপুর মহাসড়কের বনগ্রাম এলাকায় একটি মালবাহী ট্রাকে অগ্নিসংযোগ করে পিকেটাররা। অপরদিকে এদিন সকালে ১৮ দলের উদ্যোগে কালেক্টরেট ভবনের সামনে থেকে একটি মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি দশানী হয়ে শহর প্রদণি করে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম ও জামায়াতের জেলা সেক্রেটারী এ্যাড. আব্দুল ওয়াদুদ মিছিলের নেতৃত্ব দেন। এছাড়া সকালে জেলার বিভিন্ন এলাকায় সড়কে অবস্থান নিয়ে পিকেটিং করে ১৮ দলের নেতাকর্মীরা। হরতালে অন্তঃরুটে দুই/একটা যাত্রীবাহি বাস, টেম্পু ও নসিমুন চলাচল করেছে। তবে দূরপাল্লার কোন যানবাহন চলাচল করেনি।
বাগেরহাটে হেফাজতে ইসলামের কমিটি গঠন
: পীর খানজাহানআলীর পূণ্য ভূমিতে নাস্তিক মুরতাদ বগারদের ঠাই হবে না বলে হুশিয়ারি উচ্চারন করেছেন বাগেরহাটের শীর্ষ স্থানীয় আলেম ওলামারা। শাহবাগিরা এই ভূমিতে আসার চেষ্টা করলে নবীর প্রেমিক তৌহিদী জনতা বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে সে অপচেষ্টা প্রতিহত করবে। মঙ্গলবার সকালে হেফাজতে ইসলামের বাগেরহাট জেলা কমিটি গঠন উপলে আয়োজিত সভায় নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেছেন। সভায় মাওলানা আমিরুল ইসলাম সিদ্দিকীকে আহবায়ক, মাওলানা বেলাল হুসাইন, মাওলানা শহিদুলাহ, মাওলানা আবুল হাসানকে যুগ্ম আহবায়ক, মাওলানা শামসুদ্দিন ত্বহাকে সদস্য সচিব করে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। এ উপলে সভায় বক্তব্য রাখেন, হেফাজতে ইসলাম খুলনা জেলা কমিটির যুগ্ম আহবায়ক মাওলানা নাসির উদ্দিন কাশেমী, মুফতি ইলিয়াস ফারুকী, মাওলানা নাসির উদ্দিন, মাওলানা আব্দুলাহ জুবায়ের প্রমুখ।
খুলনার কপিলমুনি সাব পোষ্ট অফিসের বেহাল দশা ভবনে ফাটল, জনবল সংকট
নিরাপত্তাহীনতায় বাদী : এক বছরেও শুরু হয়নি খুলনার খালিশপুরের ডিম বিক্রেতা শহিদুল হত্যার বিচার
: খুলনা নগরীর খালিশপুরে ডিম বিক্রেতা শহিদুল ইসলাম (৪৫) হত্যা মামলার বিচার এক বছরেও শুরু হয়নি। চার্জশীটভুক্ত ৯ আসামীই জামিনে বের হয়ে বাদীকে নানাভাবে হুমকি-ধামকি অব্যাহত রাখলেও পুলিশের ভূমিকা নিরব। বাদী হওয়ার অপরাধে নিজেই ঘাতকদের টার্গেটে পড়েছেন। এমন কি মৃত্যু বার্ষিকী উপলে গৃহীত কর্মসূচী সুষ্ঠুভাবে পালন করা নিয়েও বাদী রয়েছেন নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে। ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ২০ মার্চ দুপুরে খুলনার খালিশপুর চিত্রালী বাজারের সামনে বিআইডিসি সড়কে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে ডিম বিক্রেতা শহিদুল ইসলামকে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই ডিম ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে ১১জনের নাম উল্লেখ পূর্বক অজ্ঞাতনামা ৫/৭ জনকে আসামী করে খালিশপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সম্প্রতি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এজাহারভুক্ত ১০ জনের নামে চার্জশীট দাখিল করেন। চার্জশীটভুক্ত আসামীরা হলো নুরু ওরফে ভাঙ্গারী নুরু, শাহ আলম, কালা সুমন, সবুজ, ছোট বাবু, জাহাঙ্গীর, সুন্দর শহিদুল, জয়নাল ও হেনা বেগম ওরফে কোট বেগম। ইতোমধ্যে আসামীরা সকলে আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে এসেছে। সুজন নামের এজাহারভুক্ত এক আসামীর নাম বাদ দেয়ায় বাদী আদালতে নারাজি দেন। ওই আবেদনের উপর শুনানীর ধার্য্য তারিখ কয়েক দফা পরিবর্তন হয়েছে। সর্বশেষ আগামী ২৪ মার্চ নারাজির উপর শুনানীর উপর দিন ধার্য্য করা হয়েছে। চার্জশীটভুক্ত আসামীরা প্রায় সকলেই নানা অপরাধের সাথে জড়িত। তারা এলাকার ত্রাস হিসেবে সাধারণ মানুষের নিকট পরিচিত। এদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। প্রকাশ্য দিবালোকে শহিদুলকে হত্যার করে জামিনে বের হয়ে এসে তারা আরো বেপরোয়া হয়ে পড়েছে। এ হত্যার পর তারা এলাকায় এখন মূর্তিমান আতংক। এমন কোন অপরাধ নেই যা তারা করছে না। স্থানীয় একজন আইনজীবী আইন দিয়ে, একজন মুরগী ব্যবসায়ী অর্থ দিয়ে আর তাদের এক নিকটজন মাঠ পর্যায়ে সহযোগীতা করে তাদের খালিশপুরে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এসব ভয়ংকর অপরাধীদের তারা গোপনে আর সদরে মদদ দিচ্ছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। নিহত শহিদুলের পরিবারও মানবেতর জীবন যাপন করছেন বলে বাদীর জানান। এদিকে আসামীরা জামিনে এসে বাদীকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য একাধীকবার হুমকি দিয়েছে। এমন কি বাদীকে মিথ্যা মামলায় অথবা তার ডিমের দোকানে অবৈধ কোন কিছু রেখে বাদীকে ফাসানোর হুমকি দেয়। এসব ঘটনায় বাদী নজরুল ইসলাম চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে তিনি খালিশপুর থানায় তিনটি জিডি করলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি বলে বাদী অভিযোগ করে বলেন। তিনি কাশিপুরে বসবাস করলেও জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বিঘœ। তিনি বলেন, আগামী বুধবার শহিদুল হত্যার এক বছর পূর্তি উপলে পরিবারের প থেকে নানা কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে ওই জোহরবাদ চিত্রালী বাজারে মসজিদে দোয়া ও কাঙ্গালী ভোজ। উক্ত কর্মসূচী চলাকালে মামলার আসামীরা কোন ধরণের হামলা করতে পারে এমনই আশংকায় তিনি আতংকিত। এ জন্য তিনি থানা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করবেন বলে জানান। তবে অন্য একটি সূত্র জানায়, নিহত শহিদুল ইসলামও একাধীক মামলার আসামী ছিল। সন্ত্রাসী বাহিনী প্রধান আবু সাহেল হত্যার বদলা নিতেই তার সহযোগীরা শহিদুলকে হত্যা করে বলে ওই সূত্রটি মনে করছে। কারণ ভয়ংকর আবু সালেহ হত্যা মামলার আসামী ছিল এ শহিদুল। আর শহিদুল হত্যা মামলার অধিকাংশ আসামীরাই সন্ত্রাসী আবু সালেহ বাহিনীর সক্রিয় সদস্য বলে সূত্রটি জানায়।