
জানা যায়, প্রতিবছরই পহেলা বৈশাখের আগে ইলিশ মাছের চাহিদা ও দাম দুটিই বেড়ে যায়। এ সুযোগে কিছু ব্যবসায়ী ইলিশ মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করেন। এতে দাম আরও বেড়ে যায়। চলতি বছরও বেশ কিছু ব্যবসায়ী বাণিজ্য রফতানির জন্য মাছ মজুত করেন। বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নজরে এলে ১১টি রফতানিকারী প্রতিষ্ঠানকে মজুত রাখা এক হাজার ১৫ মেট্রিক টন ইলিশ বাজারে ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়। গত ২ এপ্রিল মন্ত্রণালয়ের দেয়া নির্দেশনা মানা না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ার করে দেয়া হয়। এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বাজার তদারক করতে একটি চিঠিও দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু সরকারের এ পদক্ষেপ নেয়ার আগেই ব্যবসায়ীরা ইলিশের দাম বাড়িয়ে দেন। সরকারের পদক্ষেপ দেরিতে হওয়ায় তা আই ওয়াশ ছাড়া ক্রেতার কোনো উপকারে আসেনি।
গতকাল রাজধানীর কারওয়ানবাজার, ফকিরাপুল ও মগবাজার ঘুরে এ বর্ধিত দামেই ক্রেতাদের ইলিশ মাছ কিনতে দেখা যায়। বাজারে সাড়ে ৩০০ গ্রাম ওজনের প্রতিটি ইলিশ মাছের দাম রাখছে ৫০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা। ৫০০ গ্রাম ওজনের মাঝারি আকারের প্রতিটি ইলিশ মাছের দাম গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৮০০ টাকা থেকে এক হাজার টাকা, আর এক কেজি ওজনের বড় আকারের ইলিশের দাম প্রতিটি দুই হাজার টাকা থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকা। তবে সুপারশপগুলোতে এই দাম আরও বেশি। সুপারশপগুলোতে এক কেজি ওজনের প্রতিটি ইলিশের দাম সাড়ে তিন হাজার টাকা। আর দেড় থেকে দুই কেজি ওজনের ইলিশের দাম চার থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা।
এছাড়া বাজারে অন্যান্য মাছ আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। রুই মাছের দাম কেজিপ্রতি ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা, বড় তেলাপিয়া ১৩০, নলা মাছ ১৬০ থেকে ১৮০, তেলাপিয়া ১২০ থেকে ১৪০, শিং মাছ ৭৮০ থেকে ৮০০, কৈ মাছ ২৯০ থেকে ৩০০, পাঙ্গাশ ১২০ থেকে ১৩০, গলদা চিংড়ি ৪৮০ থেকে ৫০০, বাইম মাছ ৫৫০ থেকে ৬০০ এবং রূপচাঁদা ৭৩০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাছের পাশাপাশি বাজারে কেজিপ্রতি পাঁচ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে আদা, রসুন ও পেঁয়াজের দাম। পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২৫ টাকা, আগে ছিল ২০ টাকা। রসুন বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়, আগে ছিল ৮০ টাকা। আদা বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়, আগে ছিল ৫০ টাকা। মাংসের দাম চলতি সপ্তাহে অপরিবর্তিত রয়েছে। খাসি প্রতিকেজি ৫০০ টাকা, গরু ২৮০, মহিষ ২৬০, দেশি মুরগি ২৮০ এবং ব্রয়লার ১৫০ টাকা। ফার্মের মুরগির ডিমের দাম প্রতিহালি ৩২ টাকা, হাঁসের ডিম ৪০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
এদিকে বাজারে শাকসবজির দাম কেজিপ্রতি দুই থেকে পাঁচ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আলুর দাম কেজিপ্রতি ১২ থেকে ১৪ টাকা। বেগুনের দামও বেড়েছে কেজিপ্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা। গতকাল বাজারে বেগুন বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, আগের সপ্তাহে দাম ছিল ৪৫ থেকে ৫৫ টাকা। এছাড়া পটোল ৪০ থেকে ৫০ টাকা, করলা ৫০, লাউ ৩০ থেকে ৩৫, ফুলকপি ২০, বরবটি ৬০, গাজর ১৫ থেকে ২০, চিচিঙ্গা ৬০, মিষ্টিকুমড়া ২০ থেকে ৩০, ঝিঙে ৫০, টমেটো ২০ থেকে ২৫, শিম ২৫ থেকে ৩০, শশা ৩০ থেকে ৪০ এবং পেঁপে ২০ থেকে ২৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে দাম বাড়ার হার রাজধানীর বাজারের স্থানভেদে কিছুটা কম-বেশি রয়েছে। এছাড়া প্রায় সব সবজিই বাজারভেদে ৫ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত কম-বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।