ইউরোবিডি সংবাদ : বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবেই পরিচিত। এ রাষ্ট্রে মাঝে মাঝে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সব সময়ই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা হয়ে আসছে। তবে সংখ্যা লঘুদের প্রতি সাম্প্রতিক যেভাবে নির্যাতন করা হয়েছে তা কখনোই কাম্য হতে পারে না। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব সরকারের এ কথা যেমন সত্য ঠিক তেমনই নিরাপত্তা নিশ্চিত করনে বিরোধীদলেরও ভূমিকা রয়েছে। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা বিঘিœত হলে তার দায় দায়িত্ব সরকারের পাশাপাশি বিরোধীদলও এড়াতে পারে না। 
গত বৃহস্পতিবার বিকালে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের একটি মিলনায়তনে ফ্রান্সস্থ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা পরিষদ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠনে আজকের বাংলাদেশ এবং করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক এডভোকেট সুলতানা কামাল ও সুপন চক্রবর্তী।
দুইপর্বে বিভক্ত সভার প্রথম পর্বের আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন রজত রায় রাজু। আলোচনা সভা পরিচালনা করেন এটিএন বাংলার ফ্রান্স প্রতিনিধি দেবেশ বড়–য়া। দ্বিতীয় পর্বে উপস্থিত দর্শকদের জন্য প্রশ্নাত্তর পর্ব। প্রশ্নাত্তর পর্ব পরিচালনা করেন সুব্রত ভট্টাচার্য শুভ। অনুষ্ঠানের শুরুতে সাভারের ভবন ধ্বসের ঘটনায় নিহতদের স্মরনে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। বক্তারা সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া রামুর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতনের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, যে বা যারাই এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের শাস্তির দাবী জানানো হচ্ছে। বক্তারা আশা করেন রামুর ঘটনায় জড়িতদের বিচারের সম্মুখীন করে সরকার একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। এ সময় বক্তারা বলেন, সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন প্রতিরোধের দায়িত্ব যেমন সরকারের রয়েছে ঠিক তেমনি বিরোধী দল ও এ ক্ষেত্রে উস্কানীমূলক বক্তব্য না দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা নিতে পারে।
বর্তমান সংবিধান সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, একটি দেশে নানা জাতি ও ধর্মে বিশ্বাসীরা বাস করে। তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সংবিধানে ধর্মীয় নিরপেক্ষতা বিষয়টি নিশ্চিত করা দরকার। কিন্তু বর্তমান সংবিধানে ‘বিসমিল্লা’ বহাল রাখায় একটি বিশেষ ধর্মের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে ও সাংঘর্ষিক বলে বক্ত্রাা জানান।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় নাগরিক সমাজের বিশাল ভূমিকা রয়েছে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, দেশের জনগনকে অপর ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও অপরের মতের প্রতি সহনশীল হবার জন্য জনগোষ্ঠীকে সচেতন করা দরকার। এ সচেতনতার দায়ভার নাগরিক সমাজেরই। তাই এ বিষয়ে তাদের এগিয়ে আসতে হবে।
আলোচনা সভায় বক্তারা সাভারের ভবন ধ্বসে পড়ায় শ্রমিক নিহত হওয়ার বিষয়ে বলেন, কারো ব্যক্তিস্বার্থের জন্য শ্রমিক নিহত হওয়া অবশ্যই মানবতা বিরোধী অপরাধ। এ ধরনের অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা দরকার।
বক্তারা বাংলাদেশের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে ও আলোচনা করেন।
আলোচনা সভায় ফ্রান্সের অবস্থিত বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



