
তাঁর মতে মস্কো না আসা ও রুশ নেতা ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দেখা না করার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যরাই, কারণ এই লোকরাই রাশিয়া এডওয়ার্ড স্নোডেনকে সাময়িক রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়াতে ক্ষুব্ধ. ওবামা স্রেফ বাধ্য হয়েছেন যেমন রিপাব্লিকান, তেমনই ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কংগ্রেস সদস্যদের পক্ষ থেকে চাপ দেওয়াতে এক রকম প্রতিক্রিয়া দেখাতে. তিনি ঠিক করেছেন রাশিয়ার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার, কিন্তু নিজেদের অসন্তোষও দেখানোর. আমি এটাকে বলব “একটা নমনীয় ভাবে দিক বদল” – উল্লেখ করেছেন কিরিল কোকতীশ.
প্রসঙ্গতঃ এই আগষ্ট মাসেই ওবামা চাইছেন যে, মার্কিন কংগ্রেস তাঁর প্রস্তাবিত অভিবাসন সংক্রান্ত আইন গ্রহণ করুক, তাই বলা যেতে পারে যে, দলের ও বিরোধীদের প্রসন্ন করার জন্য এটা বারাক ওবামার একটা প্রচেষ্টা বলে ও সিরিয়া ও ইরান সংক্রান্ত রাজনীতিতেও কোন বড় রকমের রদবদল আসন্ন মাস গুলিতে হতে যাচ্ছে না বলে, ওবামা প্রথমে আসা বস্তুকেই প্রথমে মনোযোগ দেওয়ার নীতি নিয়েছেন – বাস্তবে এটাই বর্তমানের বিশ্ব রাজনীতিতে ক্ষণস্থায়ী ব্যক্তিদের ব্যবহৃত মূল নীতি – তাই ওবামাকে দোষ দেওয়াও যায় না.
রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির সহকারী ইউরি উশাকভ সাংবাদিকদের কাছে ঘোষণা করেছেন যে, মস্কো প্রাক্তন সিআইএ কর্মী স্নোডেনকে নিয়ে পরিস্থিতি সৃষ্টি করে নি. উশাকভ একই সঙ্গে উল্লেখ করেছেন যে, ওবামার সফর বাতিল নিয়ে পরিস্থিতিও বলে দিচ্ছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সমানাধিকারের ভিত্তিতে সম্পর্ক তৈরী করায় উত্সাহিত নয়. ক্রেমলিনের প্রতিনিধি বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, বহু বছর ধরেই আমেরিকার লোকরা নাগরিক হস্তান্তর করা নিয়ে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করা এড়িয়ে গিয়েছে. এই প্রসঙ্গে উশাকভ যেমন বলেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার এলাকায় এই দেশের যে সমস্ত নাগরিক অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত, তাদের হস্তান্তরের বিষয়েও সব সময়ে নেতিবাচক উত্তর দিয়েছে, তারাও উল্লেখ করেছে যে, এই ধরনের কোন চুক্তি দুই দেশের মদ্যে নেই.
উশাকভ যোগ করেছেন যে, রাষ্ট্রপতি ওবামার জন্য মস্কো আসার আমন্ত্রণ বহাল রয়েছে. রাশিয়ার প্রতিনিধিরা আমেরিকার সহযোগীদের সঙ্গে এর পরেও কাজ করতে তৈরী রয়েছে সমস্ত রকমের দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক আলোচ্য বিষয়েই.
এর আগে হোয়াইট হাউসে তথ্য সচিব জে কার্নি ঘোষণা করেছিলেন যে, মার্কিন ও রুশ রাষ্ট্রপতিদের মধ্যে ব্যক্তিগত পর্যায়ে দ্বিপাক্ষিক সাক্ষাত্কার তাঁদের মধ্যে আলোচ্য বিষয় গুলিতে অগ্রগতির অনুপস্থিতিতে বাতিল করা হয়েছে. তা স্বত্ত্বেও ওবামা পরিকল্পনা নিয়েছেন সেপ্টেম্বর মাসের ৫-৬ তারিখে সেন্ট পিটার্সবার্গে জি২০ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন. এর আগে তিনি সুইডেনে সফরে যাবেন.